পৃষ্ঠা-১ ॥ চেক ডিজঅনার: লিগ্যাল নোটিশের বিন্যাস ও উপাদানসমূহ
নেগোসিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ বা ১৪০ ধারায় চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলার পূর্বশর্ত হিসেবে, চেক ডিজঅনারের ৩০ দিনের মধ্যে চেকদাতাকে চেকের পুরো টাকাটি পরিশোধ করে চেকটি ফেরত নেয়ার জন্য লিগ্যাল নোটিশ দিতে হয়। এই নোটিশের উদ্দেশ্য হলো—চেকদাতাকে অর্থ ফেরতের একটি সুযোগ দেয়া। চেকদাতা চেকের টাকা পরিশোধ না করলে নোটিশ পাঠানোর ৩১তম দিন হতে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এন. আই. অ্যাক্টের মামলা করতে হয়।
লিগ্যাল নোটিশের বিষয়াবলী
আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো
নোটিশটি একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর নিজস্ব প্যাডে ও ওই আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠাতে হবে।
প্যাডের ডিজাইন
আইনজীবীর প্যাডের রঙিন প্রিন্টের প্রয়োজন নেই, সাধারণ সাদা-কালো প্রিন্টই যথেষ্ট। আমাদের দেয়া নমুনা প্যাড অনুসরণ করা যেতে পারে।
ধারা উল্লেখ করবেন কিনা?
“এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা অনুসারে” — এই বাক্যাংশটি নোটিশের উপরে যুক্ত করা যেতে পারে, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
অনেক আইনজীবীই নোটিশে আইনের ধারা উল্লেখ করনে না, কারণ চেক ডিজঅনারের ঘটনায় শুধুমাত্র এনআই অ্যাক্ট নয়, বরং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মামলা এবং দেওয়ানি আদালতে অর্থ আদায়ের মোকদ্দমাও করা যায়। তাই ভবিষ্যতের আইনি পদক্ষেপের সুযোগ খোলা রাখতে তারা ধারা উল্লেখ না করেই নোটিশ পাঠান।
নোটিশ গ্রহীতার বিস্তারিত
– নাম
– পিতার নাম (যদি প্রাসঙ্গিক হয়)
– পূর্ণ ঠিকানা
– মোবাইল নম্বর
– জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (যদি পাওয়া যায়)।
নোটিশদাতার বিস্তারিত
– নাম
– পিতার নাম
– পূর্ণ ঠিকানা
– মোবাইল নম্বর
– জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর।
আইনজীবীর তথ্য
– নাম
– পেশাগত পরিচয়
– চেম্বারের ঠিকানা
– মোবাইল নম্বর।
আইনজীবীর ঘোষণা
নোটিশদাতার আদেশে বা অনুরোধে আইনজীবী কর্তৃক প্রেরিত মর্মে উল্লেখ থাকতে হবে।
চেক সংক্রান্ত তথ্য
– নোটিশদাতা কিভাবে চেকদাতার কাছ থেকে অর্থ পাওনা হয়েছেন—তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ;
– চেক নম্বর, ব্যাংক ও শাখার নাম;
– চেক প্রদানের তারিখ;
– ব্যাংকে জমা দেওয়ার তারিখ ও ডিজঅনারের তারিখ;
– ডিজঅনারের কারণ এবং ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার বিবরণ;
– একাধিকবার ডিজঅনার হয়ে থাকলে, প্রতিটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
অর্থ পরিশোধের অনুরোধ
চেকের সমুদয় অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করে চেকটি ফেরত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
আইনগত পদক্ষেপের উল্লেখ
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—এমন উল্লেখ রাখতে হবে। কিন্তু সেটা যেন হুমকি না হয়।
নথি সংরক্ষণ
নোটিশের একটি কপি আইনজীবীর শেরেস্তায় সংরক্ষণে রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা উচিত।
স্বাক্ষর ও বিন্যাস
– প্রতিটি পাতায় আইনজীবীর স্বাক্ষর ও সিল দিতে হবে। অনেকেই শেষ পাতা ব্যতীত অন্যান্য পাতায় ডান পাশে আড়াআড়িভাবে স্বাক্ষর ও সিল দেন। সেক্ষেত্রে নোটিশের ডান পাশে কমপক্ষে ১.৫ ইঞ্চি ফাঁকা জায়গা রেখে প্রিন্ট করা উচিত;
– নোটিশে শেষ পৃষ্ঠায় আইনজীবীর নাম ও স্বাক্ষর এবং পেশাগত সিল দিতে হবে।
নোটিশদাতার স্বাক্ষর
নোটিশে নোটিশদাতার স্বাক্ষর দেয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে কোন কোন আইনজীবী সাবনাধনতা অবলম্বনের জন্য নোটিশের প্রতিটি পাতায় নোটিশদাতার স্বাক্ষর গ্রহণ করেন।
ডাকযোগে প্রেরণ
নোটিশটি যথাযথভাবে রেজিস্ট্রিকৃত এ/ডি ফরম পূরণ করে সরকারি ডাকে পাঠানোই সর্বোত্তম বলে বিবেচিত।
নোটিশে নামের ক্রমবিন্যাস
নোটিশে নোটিশ গ্রহীতার নাম-পরিচয়, নোটিশ দাতার নাম-পরিচয় এবং নোটিশ দাতার পক্ষে আইনজীবীর পরিচয় উল্লেখ করতে হয়। নাম-পরিচয় উল্লেখের ক্ষেত্রে কার নাম আগে হবে তার কোন আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। তবে প্রথমেই নোটিশ গ্রহীতার নাম উল্লেখ করাই শোভন ও যুক্তিযুক্ত।
নোটিশে কি কি লেখা যাবে না?
অতিরিক্ত বিবরণ নয়
দেনদেন সংক্রান্ত অনাবশ্যক বিবরণ প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে। চেকদাতার কাছে অর্থ পাওয়ার সংক্ষিপ্ত কারণই যথেষ্ট।
হুমকিমূলক বক্তব্য নয়
আইনগত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু হুমকি বা ভয়ভীতির সুরে নয়।
অতিরিক্ত বিবরণ ক্ষতিকর
যে কোন লিগ্যাল নোটিশ বা মামলার আরজি খসড়ায় যতটা সম্ভব সংক্ষেপে ও সুস্পষ্টভাবে ঘটনার বিবরণ দেয়া উচিত। ঘটনার ছোট ছোট বিষয়ের বিবরণ অথবা অতিরঞ্জিত বিবরণ দিলে তা অপর পক্ষকে অতিরিক্ত জেরা করার সুযোগ তৈরি করে, যা আত্মঘাতী হতে পারে।
লিগ্যাল নোটিশের নমুনা-১॥ পৃষ্ঠা ২
Discover more from কৌঁসুলির কলাকৌশল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
